ঢাকা বিভাগ

শ্রীপুরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

স্টাফ রিপোর্টার : ১০ তারিখ রবিবার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন শ্রীপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার স্যার, এ সময় উপস্থিত ছিলিন শ্রীপুর উপজেলা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান আশিক। উক্ত অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রানা।
বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বরমী ইউনিয়ন বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রিয়াজ আহমেদ আল- আমিন। উক্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহসিন মিয়া শাহিন, এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বাল্যবিবাহর বিরুদ্ধে কঠিন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। বাল্যবিবাহের সাথে যারা জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন করার নির্দেশ গভমেন্ট দিয়েছে। আর সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্রীপুর উপজেলা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটি রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীপুর উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান আশিক এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ রানা সহ কমিটির সকলেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
অভিযান পরিচালনা করে বাল্য বিবাহ বন্ধ করে সবাই কে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করার জন্য আহবান করেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ আইন সম্পর্কে সকলকে অবগত করে।এই সময় ছেলে এবং মেয়ে উভয় পক্ষের পরিবারের সম্মতিক্রমে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। এ সময় এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইনকে পরিপূর্ণভাবে সম্মান এবং শ্রদ্ধা করবে। পরবর্তী তে মেহেদী হাসান আশিক বলেন সকলের উপস্থিতিতে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের নিমিত্ত, জাতীয়, জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি সমন্বয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং উহাদের কার্যাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

কোন বিবাহ নিবন্ধক বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর ও অন্যূন ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তাহার লাইসেন্স বা নিয়োগ বাতিল হইবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “বিবাহ নিবন্ধক” অর্থ Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974) এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ্‌ রেজিষ্ট্রার এবং Christian Marriage Act, 1872 (Act No. XV of 1872), Special Marriage Act, 1872 (Act No. III of 1872) ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪০ নং আইন) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত বিবাহ নিবন্ধক।

বিয়ের বয়স কত?
বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর এবং ছেলের বয়স হতে হবে ন্যূনতম ২১ বছর। যদি ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়েকে কিংবা ২১ বছরের নিচে কোনো ছেলেকে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ছেলে ও মেয়ের উভয়ের অভিভাবক এবং বিয়ে পরিচালনার কাজে যাঁরা জড়িত ছিলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। যদি দেখা যায় ছেলের বয়স ২১ বছর হয়েছে, কিন্তু মেয়ের বয়স ১৮ বছর হয়নি, তাহলে ছেলের অভিভাবকেরা নয়, বরং ছেলে নিজে এবং অন্য ব্যক্তিরা যাঁরা বিয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button