শিক্ষা ও সংস্কৃতি

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক ভালুকার কৃতি সন্তান সুলতানা রাজিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কৃতি সন্তান বাড্ডা থানাধীন হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক(ইংরেজি) সুলতানা রাজিয়া।

৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সকাল ১০টায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সারাদেশের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, ইউনেস্কো ঢাকার প্রধান সুসান ভিজে প্রমুখ।

উল্লেখ্য সিনিয়র শিক্ষক(ইংরেজি) সুলতানা রাজিয়া জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে (২০২৪) বাড্ডা থানা পর্যায়ে দুই বার, মহানগর পর্যায়েও দুই বার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরাম ভালুকার উপদেষ্টা, আমারবাংলা সাহিত্য পত্রের সহ সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া বাড্ডা থানা হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক(ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত। উল্লেখ্য, এর পূর্বে উপজেলা পর্যায়ে গতবছরও শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সুলতানা রাজিয়া ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের হাজি মো: আবুল কাশেম ও মাহমুদা খাতুনের নয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় এবং যায়যায়দিন ভালুকা প্রতিনিধি কবি সফিউল্লাহ আনসারীর ছোটবোন। হবিরবাড়ী বাহারুল উলুম আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম এর সহধর্মিণী এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির লেকচারার রিদুয়ানা ইসলাম রূহামার গর্ভধারীনি মা। সুলতানা রাজিয়া ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার পাড়াগাঁও গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ৯ ভাই-বোনের মধ্যে ৫ জনই নিয়োজিত আছেন শিক্ষকতা পেশায়।

স্থানীয় সমলা তাহের আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৮ সালে মাধ্যমিক, বাটাজোড় সোনার বাংলা মহাবিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক, ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন সুলতানা রাজিয়া। ইতোপূর্বে ২০০৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।

সুলতানা রাজিয়া বলেন, আজকের এ সাফল্যে আমি ভীষণ আনন্দিত এবং গর্বিত। শিক্ষক হিসেবে আমার এই প্রাপ্তি শিক্ষকতা পেশায় অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষক হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে জাতি বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে কাজ করে যেতে চাই। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব বোধ থেকে আদর্শ শিক্ষাদানে নিজেকে নিয়োজিত রেখে বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজ করে যাচ্ছি।

তার এই প্রাপ্তিতে নিজের প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটি তার নিজের গ্রামের মানুষ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button